পারমিতা ব্যানার্জি – কবিতাগুচ্ছ (আসেনি শ্রাবণ, কান্নার হরকিসিম, নরক গুলজার, ঘর, বিরহ বেদন সাঁঝে)

আমার ব্যথা যখন
বকুল হয়ে ঝরে তোমার বুকে,
আড়াল করে কেন রাখো
আকুল নদীর স্রোত।
দ্যাখো না কী চোখের কোণে
উপচে পড়া সাগর!
দেখেছো কি সব তারাদের
দূরে সরিয়ে রেখে
একলা জাগে ধ্রুবতারা,
আকাশ পারের নীরব কোলে!
দেখেছ কী একতারাটি
কেমন করে একলা জাগে
রাঙা মাটির ঐ অবুঝ বুকে…
ঝাপসা চোখে পাই না দেখা __

সামনে তবু তুমিই!
ব্যথার বকুল হাতে নিয়ে
ভাবছো তুমি কী যে!
একলা আমি কাঁদছি দ্যাখো
ঐ চোখের তারায় আরশিতে!

আসেনি শ্রাবণ

– পারমিতা ব্যানার্জি

শ্রাবণ কোথায় হারিয়ে গেল
শরৎ এখন আকাশ জুড়ে __
কাশ ফোটেনি নদীর ধারে
আকাশটা কী ওসব জানে!

শুকনো মাটিও ভুলেই গেছে
শ্রাবণ ধারা কাকে বলে __
প্রখর রোদে মাতাল হাওয়া
মেঘের তুলোয় করছে খেলা।

সূর্য যে আজ যাবার বেলায়
রাঙিয়ে আকাশ হাসি মুখে,
করছে খেলা পাখির ডানায়।
শরৎ আলোয় ফিরছে পাখি ।

শ্রাবণ সুখে ব্যাঙ ডাকেনি __
জলার ধারে বিরহে ঝিঁঝি।
সান্ধ্য শাঁখে তুলসীতলায়
শ্রাবণ খোঁজে গাঁয়ের বধূ!!

কান্নার হরকিসিম

– পারমিতা ব্যানার্জি

খোকা ধরে বায়না
খুকু জোড়ে কান্না।
ওদেরটা ঠিক ছিল
বোঝানোয় ভুল ছিল
তাই ওরা কেঁদেছিল।

বড়দের কান্না
ঠিক বোঝা যায় না
প্রেম না কী ছলনা
এখানেও কিছু দেনা
আর কিছু পাওনা!

বুক চেপে কেউ কেউ
আড়ালে কেঁদেছিল!

নরক গুলজার

– পারমিতা ব্যানার্জি

যখন __
খুঁজছে প্রাণ হেঁজি পেঁচি
রাত বিরেতে কানামাছি!
মাছি বলল _পাচ্ছে হাঁচি ;
শূন্য বাটি, কোথায় চাঁচি!
না খেয়ে কী করে বাঁচি!!
নরক বোধহয় সাচ্চি…

তখন__
করোনা বলল _ “থামো “!
বাঁচাটাই একটা ব্যামো…
রং বেরং এর মরণ চাও?
বং বং সাধের লাউ বাজাও!
যখনই দেবে হাঁচি __
জানবে আমি আছি।

এখন __
তিন নম্বর ঢেউ এ নদী
পার হতে পারো যদি __
বুঝবে তখন স্বর্গ বৃথা,
নরক মিষ্টি মধুর ব্যথা __
দিলেই একটা” হ্যাঁচ্চো
নরকেই শুষবে চাঁচি!

ঘর

– পারমিতা ব্যানার্জি

সাজানোর পর__
যেমনই হোক সে ঘর,
দেখবে সেও হয়ে যাবে সুন্দর!

একটা ফুলদানি__
ঘরের অলঙ্কার মানি!
ঘরকে আরো প্রাণ দেবে জানি!

তুমি যখন ঘরে__
ঘরে সরগম ঝরে পড়ে।
কোণায় কোণায় খুশি থরে থরে।

বিরহ যখন শ্বাসে__
আঁধার যে নেমে আসে।
মনে হয় তুমি চলে গেছ পরবাসে!

ঘর তখন আপন__
তোমার সুখের গোপন,
যখন প্রেমে সাজাও, করো যতন।

বিরহ বেদন সাঁঝে

– পারমিতা ব্যানার্জি​

আমার ব্যথা যখন
বকুল হয়ে ঝরে তোমার বুকে,
আড়াল করে কেন রাখো
আকুল নদীর স্রোত।
দ্যাখো না কী চোখের কোণে
উপচে পড়া সাগর!
দেখেছো কি সব তারাদের
দূরে সরিয়ে রেখে
একলা জাগে ধ্রুবতারা,
আকাশ পারের নীরব কোলে!
দেখেছ কী একতারাটি
কেমন করে একলা জাগে
রাঙা মাটির ঐ অবুঝ বুকে…
ঝাপসা চোখে পাই না দেখা __
সামনে তবু তুমিই!
ব্যথার বকুল হাতে নিয়ে
ভাবছো তুমি কী যে!
একলা আমি কাঁদছি দ্যাখো
ঐ চোখের তারায় আরশিতে!


কবি পরিচিতি

পারমিতা ব্যানার্জি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায় আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পিতা স্বর্গীয় দাশরথি দাস, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। মাতা স্বর্গীয় মণিকা দাস গৃহবধূ ছিলেন। ছয় ভাই বোনের মধ্যে আমি চতুর্থ। বর্তমানে আমি আমার জীবন সাথী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্রী তমাল ব্যানার্জি, একমাত্র পুত্র পরন্তপ ও পুত্রবধু পৃথা সহ শ্বশুরালয়ে থাকি।

ছোটবেলায় বাবার অনুপ্রেরণায় ও মায়ের সাহচর্যে লেখালেখি, আবৃত্তি ও ছবি আঁকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে সংসারে জড়িয়ে পড়ে ছেদ পড়ে লেখায়। কুড়ি বাইশ বছর পর পুত্র পরন্তপের উৎসাহে নতুন করে কলম ধরা এবং বাংলা কবিতা ডটকমে যুক্ত হওয়া। এখানেই আমি নতুন করে খুঁজে পাই জীবন। এই কবিতার জগতে এখন চলছি এবং চলছি।