অজয় রায় – কবিতাগুচ্ছ – পথরেখা

ভালোবাসলে

– অজয় রায়

সবুজ পালক নিয়ে হাঁটতে থাকো, পতাকা পাবে।
এক বিকেলে উড়ে আসা নীলকণ্ঠ পাখিদের পাবে, পাবে বকফুল রঙের মতো মন।
তবুও
চোখে জল নিয়ে কেন মেঘপাহাড়ের আড়ালে গেলে!
একদিন চাঁদ আমলকীর রঙে গোল ছিল-
আজ বর্ষাবরণ।
অরণ্যে জমা পড়া দরখাস্ত তুমি পড়েছ, পাহাড় পড়েছ, শুধু বর্ষা পড়নি।
ভালোবাসলে একা হতে হয়।
তাই হাত থেকে মন পড়ে যায়, সবুজ পড়ে যায়…

পথরেখা

– অজয় রায়

সেনবাড়ির দিকে যে পথটি চলে গেছে, তার আঙুলে চাঁপারঙের ভোর। ওকে নথ পরিয়ে দাও।
খোঁপাটি বেঁধে অতঃপর মানুষ রঙের সুর্মা লাগাও।
কি হলো! বোতামগুলোকে ডাক, ডেকে তোলো। এবার সজনেফুলের জামা পরাও।
আজ রোববার তাই কিছু ব্যাখার প্রয়োজন নেই, শুধু ডাকলেই হবে, দেবলীনা আসবে। দেবলীনাকে বলো ওর শরমটুকু ছুঁতে, টিপ পরিয়ে দিতে গেলেই দেখবে তার কতো লজ্জা!
লাল পাখি তোমাকে ডাকতেই পারে তবুও পেপেগাছটির দিকে হেঁটে গিয়ে অন্তত সবুজ একটা কলম আনো। আর বাংলাখাতায় তার নাম
লিখতে বলো, বানান ভুল হলে চলবে না।
দেবলীনাকে বলো যেন সত্যিই তার নামের বানানে ভুল না করে। তার নাম ‘পথরেখা’। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী সে লাবণ্যের দিনকয়েকের ছোট।

রঙ-পেন্সিল হারিয়েছি আমি

– অজয় রায়

তুমি বলেছিলে- ছুঁয়ে দেখ, শানকীর সাদাভাতে কবিতার বর্ণমালা; তাতে মায়ের মতো গন্ধ।
সত্যি বলছি আমি- ভাতের থালায় সেদিনই প্রথম মায়ের মুখ দেখেছিলাম আমি।
মৌরিজঙ্গল পাড়ি দিতে দিতে একবার তোমার অনামিকা ছুঁয়েছিলাম আমি। চারদিকে ডালিমছায়ার ঘর। পাখির ঠোঁটের খড়ে তখন বাসাবাঁধা ইচ্ছেরা।
হঠাৎ কবিতার একটি উজ্জ্বল পঙক্তি আমাকে ছেড়ে সোজা জলপাইগাছের দিকে হেঁটে গেল।
তখন প্রতিটি চুম্বনই একা। দেখি তোমার গোলাপি রঙের হাতও মেঘ-পাহাড়ের দিকে সরে গেছে,
তাই রঙ-পেন্সিল হারিয়েছি আমি।
ভাতের থালা ফের আঁকতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম। তুলসীতলার দিকে দাঁড়িয়ে থাকা তোমাকে আঁকতে গিয়ে ব্যর্থ হলাম।
প্রেম নেই।
তাই মা, মাতৃভূমি অথবা হেমন্তের রাজকন্যা আর আঁকা হলো না।
শেষট্রেন ফিরে গেল একা।


কবি পরিচিতি – সংক্ষিপ্ত



অজয় রায়। জন্ম খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হাজিবুনিয়া গ্রামে। বর্তমানে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত। এ পর্যন্ত প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ নয়টি।