ক্রান্তিকাল
– নরেশ বৈদ্য
ঝুরঝুর করে মাটি সরছে কিংবা ভাঙছে পাড়
শব্দের হেরফের, মানেটা কি আলাদা বুঝায়?
সভ্যতার কিলবিলে শুঁয়োপোকা গুলো-
রক্তচক্ষু তুলে দিকে দিকে গর্জায়
সবুজ ঘাসের পাতায় পাতায় পৈশাচিক উল্লাস
রক্তগঙ্গা বয়ে যায়
তাকিয়ে দেখুন জলে জল বাঁধছে
সেইসব অট্টালিকার কিনারায়
যেথা প্রেম শুষ্ক মরুভূমি, চাহিদার আগাছা
বুকের ভিতর পরিপূর্ণ লকলকে লালসা
আজও দিনান্তে ঝুপড়ির ধারে ভুকা পেট গুলো অসহায়
এ কেমন নোনা জলের বানভাসি ঝলসানো বিদ্যুৎ ঢেউ?
স্বার্থের শীতঘুমে জুটছে এতো এতো কালো ছায়া সীমাহীন ফেউ!
দগ্ধ আকাশ, দগ্ধ বাতাস দিকে দিকে পোড়া বারুদের গন্ধ
অ্যাসিড বৃষ্টিতে বুলেটের ঝাঁঝালো মিছিল-
উদ্ভাসিত হাহাকার দমবন্ধ
কেবলই বিস্তীর্ণ মারন রোগের কঙ্কাল চক্রব্যূহ!
মেঘহীন আকাশ কোথায়?
এমনটা পারলে!
– নরেশ বৈদ্য
মেঘ-রোদের খেলার স্থান সংকুলান
সেটা তুমিও জানো, আমিও—
আর শিরশিরে আবেগের কথা যদি বলো
তাও ডানাহীন পাখির মতো নৈব-নৈব-চ
ঐ যে পিয়ানোর সুর ভাসালে
কি যেন বলেছিলে? মনে পড়ে?
ওখানেই বাঁধা আছে চাহিদার মাধবীলতা, কাঙ্খিত স্বপ্নের সুখ
সেখানে কি দাবানলের আগুন হাওয়া কখনো বইতে পারে-
কিংবা শ্রাবণ সুখের উল্লাসে বৃষ্টিভেজার ইচ্ছে কি জমতে পারে?
এ কাঙাল মনও ভিক্ষার ঝুলি হারিয়ে ফেলছে সেই কবে
ঐ যে বললে আমার কোনো অসুবিধা নেই
সে কারণে শেষবারের মতো শীতের রোদকে ভুলে-
সামান্য ছায়া হয়ে, তোমার তিমিরে সমান্তরাল বয়:সন্ধির শব্দ বুনতে চেয়েছিলাম
একটুও নোনতা আলিঙ্গনের বিবশ ছবি নেই গোপন কোণায়
রক্তমাখা ফুসফুস কিছু কি লুটে নিতে পারে অলব্ধ ফসিল ফলাতে চেয়ে?
সে কথা জেনেও তুমি বন্ধনের ফিকে রঙে নীরব পাতায় প্রসুপ্ত কান্না এঁকে দিলে!
চেনা রোদের আলতো ছোঁয়া
– নরেশ বৈদ্য
কিছুই মাথায় ঢুকছে না
যেন সংঘবদ্ধ আন্দোলন, ভাটা চলছে শব্দের বুকজুড়ে
পথ হারানো নাবিকের মত হাঁপিয়ে উঠেছি সাঁতারের রূপরেখা খুঁজে পেতে
হঠাৎ ঝাঁকুনি, ফেলে আসা আলপথে তাকাতেই-মনে পড়ে গেল
জন্মেই কি আগুনের গোলা ছিলে?
এবার নিজেকে খেয়ে ফেলার পথ তৈরি হলো
হ্যাঁ তাই, আগুন নেভাবে কি বলো ?
অনুভূতির পাঁজরে হু হু হাওয়া–
বৃষ্টিতে ভিজতে চাইলো রসিক নাগর
একবার কাছে পাই —
টের পাবে-আগুন নেভানো ছাই কী ভাবে ওড়াতে চাই
হৃদয়ে নিভাঁজ ঢেউয়ের তোলপাড় ঝড়।
জোছনা ভরা রাতের তারারাও মুচকি হাসি আঁকছিলো
উপচে পড়লো ইচ্ছের মাঝদরিয়া–
ফাগুন সোফার চেনা রোদ্দুর,বিশ্বাস
বলো তো দেখি-প্রথম কবে-কিভাবে আমায় দেখে ছিলে?
মুক্তি কোথায়
– নরেশ বৈদ্য
আড়ে নেই বহরে বাড়ছে ভাইরাস
ওষুধ নেই যাঁতাকলে উঠছে নাভিশ্বাস
আমজনতার প্রদীপ যিনি তিনি গেলেন চলে
লম্বা মিছিল ছেড়ে গেলেন জীবন্ত সব কঙ্কালের
আঠারো লক্ষ চৌত্রিশ হাজার নয়শত তিপ্পান্ন
নাচন কোদন শতেক রকম
প্রথম সারির বিজ্ঞাপনের বাজনদার
এর পর ও কি আর কিছু বলার আছে?
পচন ক্রিয়া কোথায় ছুঁয়েছে?
ওই যে দেখুন প্রচার হাসছে
বিবেকের কোরক লাঠি পেটাচ্ছে
সম্বল কেবল আম্লিক রস,ফসকা ঢেঁকুর
আশেপাশে ঘুরছে ফিরছে কালো মেঘ
অন্ধকূপের সারি সারি স্তর–মুক্তি কোথায়?
কবি পরিচিতি

নরেশ বৈদ্য। জন্ম ২৭ শে অক্টোবর ১৯৭৯, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। পিতা: স্বর্গীয় জগন্নাথ বৈদ্য,মাতা: মনোরোমা বৈদ্য। পাঁচ সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে কনিষ্ঠতম।
বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার- সোনারপুর থানার অন্তর্গত বিবেকানন্দ নগরে- কলকাতা-৭০০১৫০-স্থায়ী বাসিন্দা। পড়াশোনা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এম কম)।
কবির কলমে কবিতা জেগে ওঠে স্বতঃউৎসারিত অন্তরপ্রেরণা থেকে – জীবনের বোধের অন্তর্নিহিত চেতনায় ভাস্বর হয়ে। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: জীবনের রং তুলি, প্রেমের ঝর্ণাধারা, খেয়ালী আলোর ভেলা, যৌথ কাব্য সংকলন-৬-এ ছক্কা, দোহার, আকাশ গঙ্গা ও মোহনা।